ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৮৬ সালের পরিবেশ (সুরক্ষা) আইনের আওতায় নির্ধারিত ক্ষমতাবলে, চলতি বছরের ২৩ শে মার্চ এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA) বা পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এই বিষয়টি গত ২৩ এপ্রিল অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৬০ দিনের মধ্যে জনগণকে যে কোনও আপত্তি বা পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।


এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট
Image by Chris LeBoutillier from Pixabay

ভারতবর্ষে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA)-এর আইন আসে ১৯৯৪ সাল নাগাদ যার প্রেক্ষাপটে ছিল ভারতবর্ষের ১৯৮৬ সালের এনভায়রনমেন্ট প্রোটেকশন অ্যাক্ট বা পরিবেশ সুরক্ষা আইন এবং ১৯৯২-এ ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আর্থ সামিট এর রিও ঘোষণাপত্র। ১৯৯৪ এর সেই বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয় ২০০৬ সালে যা সময়ের দাবী মেনে আরও কিছু বিশেষ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে এতদিন পর্যন্ত কার্যকরী ছিল।

১৯৮৬ সালে পরিবেশ রক্ষা আইনে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA) এর কথা বলা হয়েছে। এর মূল কাজ হল কোনো প্রকল্প (রিয়াল এস্টেট, কোল মাইন, কেমিকেল প্ল্যান্ট, ছোট বড় ইন্ডাস্ট্রি) তা পরিবেশের উপর কী পরিমাণ প্রভাব ফেলবে তার তথ্যানুসন্ধান করা।

এই EIA বা এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এর মাধ্যমে যদি দেখা যায়, প্রকল্পের নেগেটিভ প্রভাব অনেক বেশি তখন সেই প্রকল্পটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়না। বর্তমানে ২০০৬ এর EIA নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকল্প বা পুরনো প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে তাদের EC বা এনভায়রনমেন্টাল ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়।

এই এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এর তপশীল ১ অনুযায়ী প্রকল্পগুলি দু ভাগে বিভক্ত – ক্যাটেগরি A (পরিবেশের ওপর প্রভাব বেশি, ছাড়পত্র নিতে হয় সরাসরি MoEFCC বা কেন্দ্র সরকার থেকে) ও ক্যাটেগরি B (পরিবেশের ওপর প্রভাব তুলনায় কম, ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয় স্টেট এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট অথোরিটি বা রাজ্য সরকারের কাছে) উভয় ক্ষেত্রে এই ছাড়পত্র পাওয়ার চারটি ধাপ – স্ক্রিনিং, স্কোপিং, পাবলিক কন্সাল্টেশন এবং অ্যাপ্রাইজাল, যার প্রতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


আমাদের দেশে সবকিছু নিয়ম মেনে হয়না, যা হয় সবই কর্পোরেট গোষ্ঠীর স্বার্থে, ফলে পাবলিক কন্সাল্টেশন বা পাবলিক হিয়ারিং এর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে বারবার ডজ করে বেরিয়ে যাওয়া যায় এবং এর একাধিক উদাহরণ আমরা হামেশাই আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। হ্যাঁ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু এটাই সত্যি !


পরিবেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে উন্নয়নের ডঙ্কা বাজানোতে ইতিমধ্যেই যে অপূরনীয় ক্ষতিগুলি হয়েছে সেগুলি নিম্নে ছোট্ট করে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম –

ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা

১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউনিয়ন কার্বাইডের কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস বেরোতে থাকে। মিশে যায় বাতাসে। দ্রুত হাজার হাজার মানুষ ভয়ঙ্কর শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। সব মিলিয়ে ২০,০০০-এরও বেশি মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন সেদিন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের আইএলও-এর এক সাম্প্রতিক রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ১৯৮৪ সালে অন্তত ৩০ টন মিথাইল আইসো সায়ানেট গ্যাস বাতাসে মিশে গিয়েছিল ইউনিয়ন কার্বাইডের রাসায়নিক কারখানা থেকে। প্রায় ৬ লক্ষেরও বেশি কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।

আসামের বাঘজান তৈলকূপ (তিনসুকিয়া)

এই কিছুদিন আগে আসামের তিনসুকিয়াতে বাঘজান তৈলকূপের কথা আশাকরি আপনাদের সকলেরই মনে আছে। এই তৈলকূপ ঘিরে রয়েছে ডিব্রু-শইখোয়া ন্যাশনাল পার্ক। পার্কের গাছপালা, পশুপাখি ঝলসে গেছে। লাগোয়া বিলে ভেসে উঠতে দেখা গেছে অসংখ্য জলজ প্রাণীর পচাগলা মৃতদেহ। বিলেই পাওয়া গেছে দুজন দমকল কর্মীর লাশ। আগুন আর গ্যাস তাদের এমনভাবে ঘিরে ফেলেছিল যে পালাবার অবকাশ ছিল না। ডিব্রু নদী, নানা বিরল প্রজাতির মাছ ও গাঙ্গেয় ডলফিনের জন্য বিখ্যাত। ৩৬ টি স্তন্যপায়ী প্রজাতি, যার মধ্যে বাঘ একটি, এবং ৩৮২টি প্রজাতির পাখি এই ৩৪০ কিলোমিটার ব্যাপ্তির বনে বাস করত। এছাড়াও অন্ততপক্ষে ৩০ টি বাড়ি ও অন্যন্য সম্পত্তি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। কিছুদিন পর যখন আবার সরকারের NRC নামক ভূত মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে তখন এই মানুষগুলো তাদের কাগজ কী করে দেখাবে ?

এর মধ্যেই আবার পরিবেশ মন্ত্রক আরো ৭ টি নতুন কূপ খননের অনুমতি ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে। একটিকেই সামলাতে পারে না, আবার সাত সাতটি !

বিশাখাপত্তনমে স্টাইরিন গ্যাস লীক

যেমন হয়নি বিশাখাপত্তনমে। অপরিকল্পিত লক ডাউনের ফলে উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এল জি পলিমার কম্পানির একটি জীর্ণ ট্যাংক থেকে স্টাইরিন গ্যাস বেরিয়ে কেড়ে নিল ১১টি তরতাজা প্রাণ।

মেঘালয়ের র‍্যাট হোল মাইনিং

বেশিদিনের কথা নয়। ২০১৮ সালের ১৩ই ডিসেম্বর। মেঘালয়ের জয়ন্তিয়াতে ১৫ জন খনিশ্রমিক খনির ৪০০ ফুট নীচে আটকে যায়। মেঘালয়ের এই র‍্যাট হোল মাইনিং হল ইঁদুরের মতো গর্ত করে কয়লা তোলার আদিম কায়দা। খনন কার্য এগিয়ে নিয়ে যেতে ওই শ্রমিকদেরই গাঁইতির আঘাতে দুর্বল হয়ে আসা পাথুরে দেওয়াল ভেদ করে খনিগর্ভে ঢুকে পড়ে পাহাড়ি ঝোরার অফুরন্ত জল। প্লাবিত হয় আশেপাশের প্রায় ১৫ টি খনি। ফাঁদে পড়ে যাওয়া ইঁদুরের মতো নিশ্চিত মৃত্যু নেচেছিল, ওই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর কপালে। কিন্তু তারপরেও সরকারের ভাবগতি এমন যেন মানুষ নয়, ইঁদুরই মরছে সুড়ঙ্গের ভেতরে !


কয়লা হলো কালো মাণিক। সে যতই নবায়নযোগ্য শক্তির (রিনিউয়েবল এনার্জি) ঢ্যাঁড়া পেটাই না কেন, আগামী ২০০ বছরেও কয়লার ব্যবহার কতটা কমানো যাবে, সে বিষয় আমি যথেষ্ট সন্দিহান ! আমাদের দেশ হলো পৃথিবীর মধ্যে তৃতীয় কয়লা উৎপাদনকারী দেশ এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি শক্তির ব্যবহারের ৬০% মেটায় এই কালো মানিক। ফলে কয়লাখনি নিয়ে লোভী মানুষের টানাপড়েন বহুদিনের পুরনো। আর সেইজন্যেই কাগজে কলমে র‍্যাট হোল মাইনিং নিষিদ্ধ হলেও সেখানে তা রমরমিয়ে বজায় থাকে।


শিল্প বিপ্লব পরবর্তী সময় থেকেই আমরা অল্প অল্প করে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে গিয়েছি আমাদের লোভ কে সংযত না করতে পারার জন্য। মহাত্মা গান্ধী একটা খুব সুন্দর কথা বলেছেন –

“The world has enough for everyone’s need, but not enough for everyone’s greed.”

এই বিপদের আভাস পেয়ে ১৯৯২ সালে Rio Earth Summit-এ বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবর্গ মিলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য রেখে Agenda 21 নামক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে সকল দেশের প্রতিনিধিদের সম্মতিতে ২০১৫ সালে “টেকসই উন্নয়ন” অভীষ্ট “২০৩০ এজেন্ডা” গৃহীত হয়, যাতে নীচের এই লক্ষ্য মাত্রাগুলি রাখা হয় –

এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট
চিত্র সূত্রঃ Wikimedia Commons

কিন্তু ওই যে কথায় আছে না ? চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী!

কোভিড -১৯ অতিমারির কালো পর্দার আড়ালে লুকিয়ে কাজ করে যাচ্ছে মানুষের লোভ ও অবহেলা। যদিও শুধুমাত্র মানুষই এর বলি হচ্ছে না। উন্নয়নের নামে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ।

লকডাউনে সমস্ত সরকারি অফিস কাছারি বন্ধ থাকলেও মহামান্য ভারত সরকারের একটি মন্ত্রকে চূড়ান্ত ব্যস্ততা দেখা গিয়েছে। সেটি হচ্ছে পরিবেশ মন্ত্রক, যার আবার একটা গালভরা নাম আছে Union Ministry of Environment, Forests and Climate Change।

এই অতিমারির অছিলায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘ডেভেলপমেন্টাল’ প্রজেক্টগুলোকে পাস করিয়ে নেবার এই সুবর্ন সুযোগের তারা সদ্ব্যবহার করতে মোটেই ছাড়েননি। আর এই ক্লিয়ারান্স যোগাড় করবার কাজে তারা সঙ্গী পেয়েছে ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফকে। যাদের কাজ হওয়া উচিত ছিল জলবায়ুর পট পরিবর্তনের এই সাংঘাতিক সময়ে দেশের জীববৈচিত্রকে বাঁচিয়ে রাখা, তারাই জনমতকে, পরিবেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে উন্নয়নের ডঙ্কা বাজাতে উদ্দত হয়েছেন।


এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষা আইনে যতটুকু পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র, মানুষের জীবন জীবিকা রক্ষার ক্ষমতা আছে তার হাজার লিমিটেশন থাকলেও তাকে আরো মজবুত এবং সঠিক ইম্প্লিমেন্টেশনের বদলে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার একে আরও দুর্বল করার জন্য নিয়ে এসেছে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA) ড্রাফট ২০২০।

কী এমন আছে এই এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট খসড়ায় ? এতে ভয় পাওয়ার কারণ কী ?

  • এই নতুন এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA) ড্রাফ্টে আছে Post – Facto clearance. অর্থাৎ পরিবেশগত ছাড়পত্র/ EC ছাড়াই কোনো প্রকল্পের কাজ চলতে পারে। ধরুন কোনো কোল মাইন হবে হাজার হাজার একর জঙ্গল কেটে। প্রকল্পকারী সেইমত কাজ নির্দ্বিধায় চালাতে পারে EC ছাড়াই। ড্রাফ্ট অনুযায়ী এই ক্লিয়ারেন্স কাজ শুরুর পরেও পাওয়া যেতে পারে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট এপ্রিলে একটি জাজমেন্টে Post-Facto clearance কে ভুল এবং এমন আইন করা উচিৎ নয় বলে জানিয়েছে।
  • পাবলিক হিয়ারিং এর সময় কমিয়ে আনা। এর আগে এর সময় ছিল ৩০ দিন। অর্থাৎ কোনো একটি বড় প্রকল্প ধরা যাক মোটামুটি ৫/১০ বছর লাগার কথা যেটি সম্পূর্ণ হতে সেটির নেগেটিভ দিক, তার ক্ষয়ক্ষতি, জনমানুষের মতামত, অভিযোগ সবটাই মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে হবে সরকারি আধিকারিকদের কাছে। যেটা খুবই কম সময়। এখন নতুন ড্রাফ্টে সেটা আরো কমিয়ে ২০ দিন করা হয়েছে। ড্রাফ্টের নতুন খসড়ার ৪৭ নং পাতায় ৩.১ এর শেষ লাইনে বলা আছে: A minimum notice period of 20 days shall be provided to the public for furnishing their responses.
  • নতুন ড্রাফট অনুযায়ী, যদি কোনো প্রকল্প পরিবেশ আইনকে উলঙ্ঘন করে তবে সাধারণ মানুষের অধিকার নেই সেটা চিহ্নিত করার বা সেটি নিয়ে কোনো অভিযোগ জানানোর। যদি উলঙ্ঘন হয় তবে শুধুমাত্র উলঙ্ঘনকারী (প্রকল্পকারী) বা সরকার বলতে পারে সেটা। হ্যাঁ, ২৯ নং পাতার ২২নং পয়েন্টে বলা হচ্ছে: The cognizance of the violation shall be made on the – Suo-moto application of the project proponent or it can be done by the government authority…. Suo-moto application মানে প্রকল্পকারী শুধু নিজেই বলতে পারে তার পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের কথা। হ্যাঁ, ভাবুন আম্বানি, আদানিরা নিজেরাই ঘোষনা করছে তিনি পরিবেশ আইন উলঙ্ঘন করেছেন। কি কিউট না ?
  • এই খসড়ায় বলা হচ্ছে all projects concerning national defence and security or involving other strategic considerations, as determined by the central government…. further no information relating to such projects shall be placed in public domain. অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে কোনো প্রজেক্টকে স্ট্র্যাটেজিক প্রজেক্ট তাহলে তার তথ্য ওপেন করা হবেনা, পাবলিক হিয়ারিং হবেনা। সরকার যেকোন প্রজেক্ট কেই স্ট্র্যাটেজিক প্রজেক্ট বলতে পারে, তার সাথে ন্যাশনাল সিকিউরিটির কোনো সম্পর্ক না থাকলেও, আমি আপনি সেক্ষেত্রে কিচ্ছুটি বলতে পারবোনা।
  • পাবলিক কনসালটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ EIA এর। ড্রাফটে সেখানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পেজ ১৯ এর পয়েন্ট ২ এ বলা হচ্ছে public consultation is exempted for the following: এখানে কোন কোন প্রোজেক্টে পাবলিক কনসালটেশন হবেনা তার লিস্ট আছে। এফ নম্বর পয়েন্টে বলছে all linear projects under item 31 and 38, in border areas. ৩নং পেজে পয়েন্ট নং ৬ এ বর্ডার এরিয়ার ডেফিনেশনে বলা আছে border area means area falling within 100 km aerial distance from the line of actual control with bordering countries of India. মোদ্দা কথা পুরো নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া টার্গেট, যেখানে পাবলিক কোনসালটেশন হবেনা। যতটুকু জঙ্গল বেঁচে ছিল নজর এখন সেইদিকে।

যদি ভোপালের গ্যাস দুর্ঘটনা, মেঘালয়ের র‍্যাট হোল মাইনিং, আসামের বাঘজান তৈলকূপ ও বিশাখাপত্তনমের গ্যাস লিক আমাদেরকে কিছু শিক্ষা দিয়ে থাকে তাহলে ওই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনাগুলির যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে সচেতন হওয়া উচিত। পরিবেশের সর্বনাশ না করে অর্থনৈতিক উন্নতির পথকে মসৃণ করতে হলে আমাদের চাই যথোপযুক্ত পলিসির বাস্তবায়ন করা।

কিন্তু বাস্তবে তা কী হচ্ছে?


ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন